সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? জাহাজের টিকিট বা হোটেল বুকিং করার আগে সর্বশেষ সরকারি ভ্রমণ নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এখানে মৌসুমি পর্যটন নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। ২০২৬–২৭ পর্যটন মৌসুমের জন্য সরকার ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ই মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত অনুমতি প্রদান করেছেন।
২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী পর্যটকদের ভ্রমণের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা এবং যাত্রীবাহী জাহাজের যাত্রাস্থলসহ বিভিন্ন বিষয় পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী নতুন নিয়মের প্রতিদিন ৩৫০০ জন পর্যটক যেতে পারবেন সেন্টমার্টিন ভ্রমনে এবং ইদুল ফিতরের সরকারী ছুটি মাথায় রেখে মার্চ ১৫ পর্যন্ত ভ্রমন করতে পারবে।
এই গাইডে আপনি জানতে পারবেন সেন্ট মার্টিন এখন খোলা কি না, বাংলাদেশি পর্যটকরা কখন সেখানে যেতে পারবেন, কী কী বিধিনিষেধ মানতে হবে এবং ভ্রমণের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।
সেন্ট মার্টিন কি এখন খোলা?
জ্বি হ্যা, নভেম্বর ১ তারিখ থেকে সাধারন পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে প্রবেশ সহ রাত্রিযাপন করতে পারবেন। আগের পর্যটন মৌসুম ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এ শেষ হওয়ার পর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নয় মাসের জন্য পর্যটন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আগের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে নতুন পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। তবে সরকার ২০২৬–২৭ মৌসুমের সময়সূচি এবং অন্যান্য বিধিনিষেধ পর্যালোচনা করছে। তাই নতুন মৌসুমের চূড়ান্ত উদ্বোধনের তারিখ ও জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত না করে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা উচিত নয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা, জাহাজের যাত্রাস্থল, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো বিবেচনা করছে।
সর্বশেষ তথ্য জানতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করুন।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ ২০২৬–২৭
আগের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি ছিল। তবে রাতযাপনের ক্ষেত্রে মাসভেদে আলাদা নিয়ম কার্যকর ছিল।
আগের নীতিমালার সময়সূচি অনুযায়ী:
- নভেম্বর ২০২৬: শুধু দিনে ভ্রমণের অনুমতি ছিল; রাতযাপন করা যেত না।
- ডিসেম্বর ২০২৬: আগের নিয়ম অনুযায়ী রাতযাপনের অনুমতি ছিল।
- জানুয়ারি ২০২৭: আগের নিয়ম অনুযায়ী রাতযাপনের অনুমতি ছিল।
- ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে: আগের মৌসুমি ব্যবস্থায় পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকার কথা।
মনে রাখবেন এগুলো আগের নীতিমালার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৬–২৭ মৌসুমের চূড়ান্ত সময়সূচি নয়। সরকার নতুন নিয়ম ঘোষণা না করা পর্যন্ত আগের তারিখ, পর্যটক সংখ্যা বা জাহাজের যাত্রাস্থল অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
টিকিট বুকিংয়ের আগে নিশ্চিত করুন দ্বীপে ভ্রমণের অনুমতি কার্যকর হয়েছে কি না, যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করছে কি না এবং আপনার নির্ধারিত তারিখে ভ্রমণ অনুমোদিত কি না।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিনের সর্বশেষ ভ্রমণ নিয়ম
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সরকার সেন্ট মার্টিনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে ১২টি শর্তের নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল। ২০২৬–২৭ মৌসুমের নিয়ম পর্যালোচনা করা হলেও পরিবেশ সংরক্ষণ এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- ১. অনুমোদিত মাধ্যম থেকে টিকিট কিনুন
আগের নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত অনুমোদিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে পর্যটকদের টিকিট কেনার নির্দেশনা ছিল।
টিকিটের সঙ্গে ট্রাভেল পাস এবং QR কোড থাকার শর্তও ছিল। ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ QR কোডবিহীন টিকিট জাল হিসেবে বিবেচিত হতে পারত।
টিকিট কেনার আগে বর্তমান অনুমোদিত বুকিং মাধ্যম যাচাই করুন। টিকিট এবং ট্রাভেল পাস আপনার ভ্রমণের তারিখের জন্য বৈধ কি না, তা নিশ্চিত করুন।
অননুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট কেনা এড়িয়ে চলুন এবং বুকিং ওয়েবসাইটের বৈধতা সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করুন।
- ২. দৈনিক পর্যটক সীমা মেনে চলুন
আগের নীতিমালায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটককে সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে ২০২৬–২৭ মৌসুমের জন্য সরকার পর্যটক সংখ্যার সীমা পর্যালোচনা করছে। তাই নতুন মৌসুমেও একই সীমা বহাল থাকবে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
দৈনিক পর্যটক সীমা কার্যকর থাকলে ছুটির দিন ও ব্যস্ত মৌসুমে আগাম টিকিট বুকিং এবং বৈধ ভ্রমণ নথি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
- ৩. রাতযাপনের নিয়ম আগে জেনে নিন
আগের নীতিমালা অনুযায়ী নভেম্বর মাসে সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
আপনি যদি পরিবার, বন্ধু, হানিমুন বা ফটোগ্রাফির জন্য ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন তাহলে হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের আগে রাতযাপনের অনুমোদিত তারিখ নিশ্চিত করুন।শুধু হোটেল বুকিং থাকলেই দ্বীপে প্রবেশ বা রাতযাপনের অনুমতি নিশ্চিত হয় না।
- ৪. অনুমোদিত যাত্রীবাহী জাহাজ ব্যবহার করুন
সেন্ট মার্টিন রুটে যাত্রীবাহী জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন।
আগের ব্যবস্থায় কক্সবাজারের নুনিয়াছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকে অনুমোদিত যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করত। তবে নতুন মৌসুমের জন্য জাহাজের যাত্রাস্থলও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।
ঢাকা বা অন্য কোনো শহর থেকে রওনা হওয়ার আগে জাহাজের যাত্রাস্থল, সময়সূচি, টিকিটের বৈধতা এবং ফেরার যাত্রা সরাসরি অনুমোদিত অপারেটরের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।
আগে যে রুট বা জাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে সেটি নতুন মৌসুমেও চালু থাকবে—এমন ধারণা করবেন না।
- ৫. পরিবেশ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলুন
সেন্ট মার্টিন একটি পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল প্রবাল দ্বীপ। দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের স্থানীয় সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
আগের নির্দেশনা অনুযায়ী:
- নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত কেয়াবন এলাকায় প্রবেশ করবেন না। -নিষেধাজ্ঞা থাকলে কেয়া ফল সংগ্রহ বা বাণিজ্য করবেন না।
- প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, কাঁকড়া, তারামাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করবেন না।
- রাতে সৈকতে আগুন জ্বালানো, বারবিকিউ পার্টি বা অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন।
- নিষিদ্ধ এলাকায় সৈকতের ওপর মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা অন্যান্য মোটরচালিত যান চালাবেন না।
- নিষিদ্ধ পলিথিনজাত পণ্য দ্বীপে নিয়ে যাবেন না।
- একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।
- স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ এবং অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
এসব বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো পরিবেশদূষণ কমানো, বন্যপ্রাণী রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা।
ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিন যাওয়ার উপায়
ঢাকা থেকে ভ্রমণকারীদের সাধারণত প্রথমে কক্সবাজার যেতে হয়। এরপর যাত্রীবাহী জাহাজ চালু থাকলে অনুমোদিত জাহাজে সেন্ট মার্টিন যাওয়া যায়।
- ধাপ ১: ঢাকা থেকে কক্সবাজার যান
আপনার বাজেট, সময় এবং আরামের চাহিদা অনুযায়ী যাতায়াতের মাধ্যম নির্বাচন করুন। প্রাপ্যতা অনুযায়ী বাস, বিমান অথবা একাধিক পরিবহন মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে।
যাত্রাপথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখুন এবং ভ্রমণের আগে যাত্রার সময়সূচি নিশ্চিত করুন।
- ধাপ ২: যাত্রীবাহী জাহাজের সময়সূচি যাচাই করুন
জাহাজ চলাচলের বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে জেটিতে যাওয়া উচিত নয়।
নির্ধারিত তারিখের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি, অনুমোদিত অপারেটর এবং জাহাজের সময়সূচি যাচাই করুন। মৌসুমি বিধিনিষেধ, আবহাওয়া কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে জাহাজ চলাচলে পরিবর্তন আসতে পারে।
- ধাপ ৩: টিকিট ও ট্রাভেল পাস যাচাই করুন
যাত্রীর নাম, ভ্রমণের তারিখ, QR কোড এবং প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাসের তথ্য যাচাই করুন।
টিকিটের ডিজিটাল কপি রাখুন। সম্ভব হলে ইন্টারনেট ছাড়াও দেখা যায় এমন একটি অফলাইন কপিও সংরক্ষণ করুন।
- ধাপ ৪: অনুমোদিত তারিখে থাকার ব্যবস্থা করুন
আপনার নির্বাচিত তারিখে রাতযাপনের অনুমতি থাকলে আগে থেকেই হোটেল, গেস্টহাউস বা রিসোর্টের ব্যবস্থা করুন।
হোটেলের অবস্থান, চেক-ইন সময়, বুকিং বাতিলের নীতি এবং বিশুদ্ধ পানির সুবিধা সম্পর্কে জেনে নিন। আপনার থাকার তারিখ সরকারি নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করুন।
- ধাপ ৫: ফেরার যাত্রা নিশ্চিত করুন
আগেই ফেরার টিকিট এবং জাহাজ ছাড়ার সময় নিশ্চিত করুন। আবহাওয়া বা পরিবহনসংক্রান্ত পরিবর্তনের কারণে যাত্রা ব্যাহত হলে বিকল্প পরিকল্পনার জন্য সময় হাতে রাখুন।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?
সেন্ট মার্টিন একটি মৌসুমি পর্যটনকেন্দ্র। ভ্রমণের উপযুক্ত সময় নির্ভর করে সরকারি অনুমতি, সমুদ্রের অবস্থা এবং আপনার ভ্রমণের পছন্দের ওপর।
-
নভেম্বর: আগের নিয়ম অনুযায়ী দিনে ভ্রমণের অনুমতি ছিল, কিন্তু রাতযাপন করা যেত না।
-
ডিসেম্বর: আগের নীতিমালা অনুযায়ী রাতযাপনের অনুমতি ছিল। তবে নতুন মৌসুমের নিয়ম কার্যকর হলে সেই অনুমতি প্রযোজ্য হবে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
-
জানুয়ারি: আগের নীতিমালা অনুযায়ী রাতযাপন করা যেত। ভ্রমণের আগে জাহাজের সময়সূচি, পর্যটক সীমা এবং অনুমোদিত তারিখ যাচাই করুন।
-
ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর: আগের মৌসুমি ব্যবস্থায় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ ছিল।
এগুলো আগের নীতিমালার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতের ভ্রমণ অনুমতির নিশ্চয়তা নয়। ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের আগে সর্বশেষ সরকারি সময়সূচি যাচাই করুন।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে কী কী সঙ্গে নেবেন?
সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও মাথায় রাখুন।
সঙ্গে রাখতে পারেন:
- পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল।
- আরামদায়ক স্যান্ডেল বা হাঁটার উপযোগী জুতা।
- হালকা পোশাক ও রোদ থেকে সুরক্ষার সামগ্রী।
- ব্যক্তিগত ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম।
- মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র রাখার জন্য পানিরোধী ব্যাগ।
- বৈধ টিকিট, বুকিংয়ের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি।
- যেখানে ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা সীমিত সেখানে ব্যবহারের জন্য নগদ টাকা।
- প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ও খাবারের পাত্র।
- অপ্রয়োজনীয় একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং এড়িয়ে চলুন এবং বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন।
পরিবার নিয়ে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করা কি ভালো হবে?
যারা সমুদ্রসৈকত, সামুদ্রিক দৃশ্য এবং তুলনামূলক শান্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ পছন্দ করেন তাদের জন্য সেন্ট মার্টিন একটি আকর্ষণীয় পারিবারিক ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে। তবে সরকারি ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে পরিবার নিয়ে যাওয়ার আগে পরিকল্পনা করা জরুরি।
শিশু বা বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণের আগে:
- অনুমোদিত ভ্রমণের তারিখ নিশ্চিত করুন।
- যাত্রা ও সমুদ্রের অবস্থা পরিবারের সদস্যদের জন্য উপযুক্ত কি না যাচাই করুন।
- ফেরার জাহাজের সময়সূচি নিশ্চিত করুন।
- রাতযাপনের অনুমতি থাকলে আগে থেকেই থাকার ব্যবস্থা করুন।
- পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
- স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলুন।
নোট যেসব সেবা বা সুবিধা আগে থেকে নিশ্চিত করেননি, সেগুলোর ওপর নির্ভর করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করবেন না।
বুকিংয়ের আগে বাংলাদেশি পর্যটকদের করণীয়
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য টাকা খরচ করার আগে নিচের চেকলিস্টটি অনুসরণ করুন:
- সরকারি পুনরায় খোলার তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে।
- নির্ধারিত তারিখে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।
- যাত্রীবাহী জাহাজ চালু আছে এবং যাত্রাস্থল নিশ্চিত করা হয়েছে।
- অনুমোদিত টিকিট ও QR কোডের শর্ত যাচাই করা হয়েছে।
- দৈনিক পর্যটক সীমা ও ট্রাভেল পাসের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- রাতযাপনের নিয়ম যাচাই করা হয়েছে।
- অনুমোদিত তারিখ অনুযায়ী হোটেল বুকিং করা হয়েছে।
- ফেরার যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- আবহাওয়া ও সমুদ্রের অবস্থা যাচাই করা হয়েছে।
- পরিবেশ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ সম্পর্কে জানা হয়েছে।
- গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য অনিশ্চিত থাকলে সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়ার আগে ফেরত-অযোগ্য বুকিং করা থেকে বিরত থাকুন।
সেন্ট মার্টিন সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
- অক্টোবর ২০২৬-এ সেন্ট মার্টিন কি খোলা?
আগের মৌসুমি নীতিমালা অনুযায়ী অক্টোবর মাসে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ থাকার কথা। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরকার ২০২৬–২৭ মৌসুমের ভ্রমণ নিয়ম পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে। তাই বুকিং করার আগে চূড়ান্ত পুনরায় খোলার ঘোষণা যাচাই করুন।
- ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন কবে খুলবে?
আগের নীতিমালা অনুযায়ী নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি ছিল। নভেম্বরে শুধু দিনের বেলা ভ্রমণ করা যেত; ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি ছিল। নতুন মৌসুমের নিয়ম পর্যালোচনাধীন থাকায় ভ্রমণের আগে চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত করতে হবে।
- নভেম্বর ২০২৬-এ সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন করা যাবে?
আগের নিয়ম অনুযায়ী, নভেম্বরে রাতযাপন নিষিদ্ধ ছিল। হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের আগে ২০২৬–২৭ মৌসুমের চূড়ান্ত নির্দেশনা যাচাই করুন।
- প্রতিদিন কতজন পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতে পারবেন?
আগের নীতিমালায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন মৌসুমের জন্য কর্তৃপক্ষ এই সীমা পর্যালোচনা করছে। সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা দেখে নিশ্চিত হোন।
সেন্ট মার্টিন যাওয়ার জন্য জাহাজের টিকিট ও QR কোড কি বাধ্যতামূলক?
আগের সরকারি নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট কেনা এবং ট্রাভেল পাস ও QR কোড রাখার শর্ত ছিল। ভ্রমণের আগে বর্তমান বুকিং পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নথির শর্ত যাচাই করুন।
ইনানী থেকে সরাসরি সেন্ট মার্টিন যাওয়া যাবে?
আগের সরকারি ব্যবস্থায় ইনানী থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ ছিল এবং কক্সবাজারের নুনিয়াছড়াস্থ অনুমোদিত বিআইডব্লিউটিএ জেটি ব্যবহারের ব্যবস্থা ছিল। যেহেতু নতুন মৌসুমের যাত্রাস্থল পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তাই বুকিংয়ের আগে অনুমোদিত রুট নিশ্চিত করুন।
পরিবার নিয়ে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ কি নিরাপদ?
যথাযথ অনুমতি, উপযুক্ত আবহাওয়া এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে পরিবার নিয়ে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ উপভোগ্য হতে পারে। যাওয়ার আগে সমুদ্রের অবস্থা, জাহাজের ব্যবস্থা, রাতযাপনের নিয়ম এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা যাচাই করুন।
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সর্বশেষ তথ্য কোথায় পাব?
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং অনুমোদিত যাত্রীবাহী জাহাজ পরিচালনাকারীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করুন। সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নীতিমালার পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়| তবে যাত্রার আগে সরকারি সূত্র থেকে ভ্রমণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।



